যশোরে কমিউনিসট পার্টি গঠনের ইতি কথা

যশোরে কমিউনিসট পার্টি গঠনের ইতি কথা

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
সাজেদ রহমান।। যশোর-খুলনা অঞ্চলে ব্রিটিশ আমলে কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করে সুকুমার মিত্র ও কৃষ্ণবিনোদ রায়। ১৯৩২-৩৩ খ্রিষ্টাব্দে সুকুমার মিত্র যখন হিজলী স্পেশাল জেলে বন্দী ছিলেন, তখন সেখানে একটি কমিউনিস্ট গোষ্ঠী গড়ে উঠে। এই গোষ্ঠীর মধ্যে মদন দাস ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির বাংলা প্রাদেশিক কমিটির সাথে যুক্ত ছিলেন। মদন দাস, সুধীর লাহিড়ী প্রমুখ বন্দীরা সুকুমার মিত্রকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন। সুকুমার মিত্র ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে জেল থেকে মুক্তিলাভের পর কৃষ্ণবিনোদ রায়ের সঙ্গে আলোচনা করে যশোর খুলনায় কমিউনিস্ট পার্টি গঠনে উদ্যোগী হন। সুকুমার মিত্র ইতোমধ্যে পার্টির সদস্য রুপে গণ্য হয়েছিলেন। কমিউনিস্ট নেতা ডা: রণেন সেনের লেখা থেকে জানা যায় যে, ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এবং সোমনাথ লাহিড়ী গোপনে যশোরে এসেছিলেন কৃষ্ণবিনোদ রায়ের সাথে কমিউনিস্ট পার্টি গঠন সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা করেন। কৃষ্ণবিনোদ আগ্রহ প্রকাশ করেন। সুকুমার মিত্র চেতলা(জায়গা কোথায় জানতে পারেনি) অঞ্চলে কমিউনিস্ট কর্মীদের সঙ্গে সোমনাথ লাহিড়ীর বৈঠকের ব্যবস্থা করেন। এই আলোচনার পর তারা কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদেন। এরপর যশোর ও খুলনায় কমিউনিস্ট পার্টির আলাদা কমিটি গঠন করা হয়। যশোরে কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম সাধারণ সম্পাদক হন কৃষ্ণবিনোদ রায়। এই কমিটিতে শচীন মিত্র, অধীর ঘোষ, অধীর ধর, অমল(বাসু)সেন, রাধারঞ্জন চ্যাটার্জী প্রমুখেরা ছিলেন। কিছুদিন পর শান্তিময়(বাচ্চু) ঘোষ যোগদেন। কিন্তু রাধারঞ্জন পরে সদস্যপদ ত্যাগ করেন। এক বছর পর জেল থেকে বের হয়ে এসে প্রমথ ভৌমিক, নির্মল দাস, বিষ্ণু চ্যাটার্জী জেলা কমিটির অন্তভর্’ক্ত হন। সেই সময় সুধীর(বুধু) চ্যাটার্জী কমিউনিস্ট পার্টির ঘনিষ্ট হন। কংগ্রেসের অনেকে সে সময় কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদেন। যশোর জেলা কংগ্রেসের দক্ষিণপন্থী নেতারা কমিউনিস্টদের প্রভাব বৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে ওঠেন। জনসাধারণের উপর কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাব রোধের জন্য তাঁরা ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে যশোর শহরে একটি রাজনৈতিক সম্মেলন করেন। যুবলীগ, ছাত্র ফেডারেশন এবং কৃষক সমিতির কর্মীদের সেই সম্মেলনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হলে লাঠিধারী স্বেচ্ছাসেবীরা সদ্যমুক্ত রাজবন্দী দিব্যেন্দু(রবি) মজুমদারসহ বহু কর্মীর উপর প্রচন্ড আক্রমণ চালান। তরুণ ছাত্রকর্মী নরেশ সেন গুরুতরভাবে আহত হন। পরে কলকাতার মেডিকেল কলেজে তাঁর মৃত্যু হয়। এই শোচনীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা বাংলায় এক আলোড়নের সৃষ্টি হয়। নরশের শবযাত্রায় যোগদেন খ্যাতনামা কংগ্রেস নেতা অমরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, সুরেশচন্দ্র মজুমদার, কমিউনিস্ট নেতা মুজফফর আহমদ, বিশ^নাথ মুখার্জী প্রমুখেরা। সুভাষচন্দ্র বসু নরেস হত্যার প্রতিবাদে বিবৃতি দেন। এই ঘটনার পর যশোরে কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাব আরও বেড়ে যায়। কারও ছবি পেলাম শুধু দিলাম কৃষ্ণবিনোদ রায়ের।