যশোরে খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারের ইতিহাস

যশোরে খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারের ইতিহাস

কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
যশোরে খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারের ইতিহাস
সাজেদ রহমান, সিনিয়র রিপোর্টার।।
যশোরে ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথমে খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারের জন্য একটি দল এসেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুর থেকে তারা জলপথে এসেছিলেন যশোর।
পিতাম্বর সিংহ নামের একজন কায়স্থ যশোর থেকে শ্রীরামপুর যান এবং সেখানেই খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহন করেন। বাংলাদেশের খ্রিষ্টান মন্ডলীর ইতিহাস লেখকরা প্রায় সকলেই পিতাম্বর সিংহকে যশোরের প্রথম খ্রিষ্টান বলে উল্লেখ করেছেন।
পিতাম্বর সিংহ ১৮০২ খ্রিষ্টাব্দের ৩ জানুয়ারি খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহন করেন এবং মারা যান ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দের ২১ আগস্ট শ্রীরামপুরে। তিনি যশোরের ঝিকরগাছার বাক্সপোল গ্রামের মানুষ ছিলেন। তিনি খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহন করেন ডা: কেরীর হাত ধরে। স্থানীয় জমিদারদের হাতে অত্যাচারিত হয়ে ওই বছরের ২ আগস্ট স্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ পুত্রসহ চৌগাছায় আশ্রয় নেন। পরে ওই গ্রামের নাম হয়ে যায় খ্রিষ্টানপুর।
১৮০৭ খ্রিষ্টাব্দের ২০ এপ্রিল যশোর ব্যাপটিষ্ট মন্ডলী প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম যশোরের চৌগাছায় রেভাঃ কেরাপিট এরাটুন কাজ করতে আসেন। তিনি গোকুল মন্ডল নামে একজন জমিদারের কাছ থেকে একখন্ড জমি ক্রয় করেন। জায়গাটি সীতারাম মন্ডলের নামে বিষহরি গ্রামের কাছেই ছিল।
এই গ্রামটি পরে খ্রিষ্টানপুর নামে পরিচিত পেয়েছিল। চৌগাছার কোন গ্রাম যে সেই খ্রিষ্টানপুর তা আজ আর কেউ বলতে পারেন না। বিষহরি নামের একটি গ্রাম এখন আছে ঝিকরগাছার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে। সম্ভবত ১৮২৫ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টানপুর গ্রামের খ্রিষ্টানদের উঠিয়ে যশোরে আনা হয়।
১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে বেভা: টমাস চৌগাছা থেকে সাহেবগঞ্জে মন্ডলী স্থানান্তর করেন। রেভা: মার্ডন ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে যখন যশোর অঞ্চল পরিদর্শনে আসেন এ সময় সাহেবগঞ্জে মিশনের জন্য জমি ক্রয় করেন। এই সাহেবগঞ্জই হল আজকের পুরাতন কসবা। এখানেই ব্যাপটিষ্ট গীর্জাটি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
১৮২৭ খ্রিষ্টাব্দে রেভা: উইলিয়াম বাকিংহাম যশোরে আসেন। পালকীর কাজে তিনি দক্ষতার পরিচয় দেন। এ সময় যশোর শহরের সাহেবগঞ্জ, ঝুমঝুমপুর, নীলগঞ্জ মিশনে স্কুল ভালভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল।
১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সিপাহী বিদ্রোহীর সময় খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। ইংরেজদের উপর এই দেশের মানুষ খারাপ ধারনা পোষন করতে শুরু করেন। যদিও সিপাহী বিদ্রোহের বিষয়টি যশোরের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলেনি। রেভা: জে এইচ এন্ডারসন এবং রেভা: জন সেল যশোরে আসেন ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দে। তাদের প্রচারে গগন চন্দ দত্ত ও মুন্সী আজিজ বারী প্রমুখ খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহন করেন।
এ সময় ১৪টি উপকেন্দ্রে ২০ জন প্রচারক কর্মরত ছিলেন। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে যশোারের কসবায় ইটের তৈরি গীর্জা নির্মিত হয়। রেভা: এন্ডারসন ঝিকরগাছার নিম্নবর্ণের হিন্দুদের মধ্যে কাজ করে ব্যর্থ হন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যশোর ব্যাপটিষ্ট মিশন মিলিটারিদের দখলে যায়। ভারত ভাগের পর ১৯৪৭ সালে যশোরের অনেক খ্রিষ্টান ভারতে চলে যান। ১৯৫২ সালে সাধুনাথ স্থানীয় মন্ডলীর দায়িত্ব পান। সাধুনাথ ১৯৫৫ সালে ভারতে চলে যান।