যশোরে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

যশোরে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

যশোরে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

যশোরে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। অস্বাস্থ্যকর জলবায়ুর জন্য যশোরের দুর্ণাম ছিল বহু আগে। পরপর দুই জন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মিঃ এএম উইলক (১৮০৭) এবং মিঃ পার্কার(১৮০৯) মারা যান (দি রিপোর্ট অন যশোর, ওয়েষ্টল্যান্ড, পৃষ্ঠা-১১২)। তারপর ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে তাই সিদ্ধান্ত হয় যশোরের সিভিল সার্জনকে মিউনিসিপ্যাল কমিটিতে সদস্য মনোনয়ন দেয়া হবে।

এর বহু বছর পর যশোরের সংগ্রামী জনগোষ্ঠী প্রকৃতির উপর ন্যস্ত স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা অতিক্রমের জন্য ১৯২২ সালে প্রতিষ্ঠা করে ন্যাশনাল মেডিকেল স্কুল ও হাসপাতাল। উপমহাদেশে তখন এ চিন্তা করাও ছিল কঠিন। পরবর্তীকালে যশোর মেডিকেল ইন্সটিটিউট সরকারের স্বীকৃতি লাভ করে।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন ডাঃ পুর্ণগোপাল বোস। ১৯৪০ সালের ২ জুলাই যশোর মেডিকেল ইন্সটিটিউটের গঠনতন্ত্র প্রণীত হয়। সেই সময় গভর্ণনিং বডিতে ছিলেন-কেশবলাল রায় চৌধুরী, (প্লিডার), ডাঃ শরৎ চন্দ্র ঘোষ এমডি (কলকাতা), ডাঃ পুর্ণগোপাল বোস (যশোর), ডাঃ জীবন রতন ধর এমবি (যশোর), ডাঃ নরেন্দ্র নাথ চ্যাটার্জি এমবি (যশোর), ডাঃ বিমল কান্তি রায়চৌধুরী (যশোর), বাবু প্রফুল্ল কুমার রায়চৌধুরী, প্লিডার (যশোর), বাবু প্রফুল্ল কুমার ঘোষ, প্লিডার (যশোর), বাবু চন্দ্র কুমার ব্যানার্জি, প্লিডার (যশোর), বাবু সুরেন্দ্র নাথ হালদার, প্লিডার (যশোর), আব্দুস সোবহান মোক্তার(যশোর), অনেকে ডাক্তারি পেশায় আসার জন্য এই ইন্সটিটিউটে ভর্তি হয়। ওই সময়ের অবস্থা এরকম ছিল।
যশোর জেলা হাসপাতালের প্রধান ভবন ছিল টিনের চালা। পিতার স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য বাঘুটিয়ার জমিদার বংশের শ্রী কালিপদ ঘোষ পিতা মৃত ভোলানাথ ঘোষের নামে প্রধান ভবন তৈরি করে দেন। যশোর X-Ray Plant এর প্রাণ দান করেন এইচ.ই.এফ.সি বোর্ণ. কে সি. এস. আই.সি.আই.ই. ২ রা জুন ১৯৪১।
ভবন তৈরি করে চব্বিশ পরগণার ইছাপুরের খ্যাতনামা মেসার্স বি.কে মন্ডল এন্ড সন্স নির্মাণ সংস্থা। নির্মাণকাল ১৯৪০ সালে।(গণপুত বিভাগ রেকর্ড)।
যশোর সদর হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ৬ বছর পর পিতম্বর ডিসপেনসারি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় দাতব্য চিকিৎসালয় সমাজের বিত্তবানদের দানে বা একক উদ্যোগে স্থাপিত হতো। জনগণ এসব চিকিৎসালয়ে সেবা পেয়েছেন।
এর আগে যশোরে স্বাস্থ্য বিভাগে যে সব ইংরেজ সেবা দিয়েছেন, তাঁরা হলেন ডাঃ হেনডারসন, ডাঃ অ্যান্ডারসন ও ডাঃ বওসার। তাঁরা সেবা দিয়েছেন ১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে আরও প্রায় ১০ বছর। কিন্তু তারা কালো চামড়ার মানুষদের নাকি দেখতেন না। শুধু দেখতেন বিদেশী সাদা চামড়ার মানুষের। -সাজেদ রহমানন, সিনিয়ন সাংবাদিক, যশোর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.