যশোর জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠাতায় যাঁরা অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন

যশোর জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠাতায় যাঁরা অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন

কলাম ও ফিচার শিক্ষা
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাজেদ রহমান। সিনিয়র সাংবাদিক।।

১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দে যশোর জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। যশোর জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠাতায় যাঁরা অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন, তাঁদের ১০ জনের নাম পাওয়া গেছে।

তাঁদের মধ্যে বাবু রামরতন ১০০০/=, বাবু নীলকমল পাল চৌধূরী ৪০০/=, চাঁচড়ার রাজা বরদাকান্ত রায় ৪০০/=, বাবু দ্বারকানাথ ঠাকুর ২৫০/=, বাবু কুঞ্জলাল ঠাকুর ২৫০/= বাবু শুকদাস রায় ২৫০/=, বাবু রাধামোহন ঘোষ চৌধুরী ২০০/=বাবু প্রাণনাথ চৌধুরী ১০০/=, বাবু কালীকান্ত পোদ্দার ৫০/=, মৌঃ আব্দুল্লাহ উকিল ১০/= ও মোঃ করিম ৫/= টাকা দিয়েছিলেন।

সে সময় যশোর জিলা স্কুল চত্বরে নলদী রানীর কাছারী বাড়ি ছিল। এই কাছারী বাড়িতেই যশোর মডেল স্কুল চালু হয়।। ভবনটি ছিল পূর্ব মুখী। সেই ভবনের নির্মাণকাল গণপূর্ত বিভাগের খাতায় লেখা আছে ‘অজানা’। আদি অবস্থায় ক্লাস কেমন ঘরে বসতো তা জানা যায় না।

১৮৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জানুয়ারি স্কুলের খরচ নির্বাহের জন্য নলদী পরগনার জমিদার শ্রীরাণী যে অঙ্গীকার পত্র স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন, তা ছিল এই রকম-

‘‘ নিমিতং শ্রীরাণী কাত্যায়ণী জমিদার গরগণে নলদি ও গয়রহ-
মোতানকে জেলা যশোহর কস্যস্কীকৃতিপত্রমিদং কার্যাজ্ঞগ্রে-
শ্রীযুক্ত গবর্ণন কৌউসনের আজ্ঞানুসারে জেলা জসহরের কসবা-
মোকামে জেইস্কুল স্থাপন হইয়াছে তাহার খরচা নির্বাহনিমিত্ত-
বার্ষিক মবগনে ৩০০(তিনশত) টাকা কোম্পানীর আমার-
বার্ষিক দেত্তা কত্যবা হইয়া এই স্বীকৃতিপত্র এই নিয়মে লিখিয়াদিতেছি-
জে আমার উক্ত জমিদারী পরগণে নলদির মুনাফা হইতে-
ঐ মবগনে ৩০০(তিনশত) টাকা জাবত উক্ত ইস্কুল স্থায়ী-
থাকিবেক তাবত ঐ ইস্কুলের কর্মধ্যক্ষকে সন সন দিব-
এতদার্থ স্বীকৃতপত্র লিখিয়া দিলাম’’।
ইতি-শ্রীরাণী কাত্যায়ণী।

যশোর জিলা স্কুল ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠার পর প্রথমে তার দায়িত্ব নেয় কোম্পানি। স্কুলের নাম ছিল ‘‘যশোর সরকারি স্কুল’’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় স্কুলের অনেক গুরুত্বপুর্ণ নথিপত্র খোয়া যায়। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে স্কুল বার্ষিকীর স্কুলের কিছু কথা লেখা আছে। সেখানে বলা হচ্ছে- প্রথম বছর স্কুলের ছাত্র সংখ্যা ছিল ১৩২ জন।

এরমধ্যে মুসলমান ছাত্র ছিল ১৮ জন। ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে স্কুলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘যশোর জিলা স্কুল’। ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে জিলা স্কুলে প্রথম চালু হয় ফারসী ভাষা। গণপুর্ত বিভাগের নথিতে যশোর জিলা স্কুল ২৮ নম্বর ভবন বলে চিহিৃত। সেখানে লেখা আছে ১৯০৭-১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে স্কুল ভবন সংস্কার করা হয়। ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দের দিকে স্কুলের উত্তর দিকে একতলা হিন্দু হোষ্টেল(২৮এ) নির্মিত হয়।

পাঁচ বছর পর ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে প্রধান শিক্ষক কোথায় ছিলেন, সে জবাব জানা যায়নি। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে স্কুলের দক্ষিণে একতলা বাটম মুসলিম হোস্টেল(২৮বি) নির্মিত হয়। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের আগে উভয় ভবনের দো-তলা নির্মিত হয়। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলার দু’জন মন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও তমিজউদ্দিন খান প্রাদেশিক পরিষদের স্পীকার ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খান বাহাদুর এম আজিজুল হক যশোর সফর করেন। তাঁদের সম্মানে তৎকালীন যশোর জেলা মুসলিম ছাত্র ইউনিয়ন মানপত্র দেন।

ভিজিট করুন

শিশুদের ভবিষ্যত রচনায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : শেখ রাসেলের জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী