যাঁর জন্ম না হলে বাংলাদেশের ইতিহাস হয়তো ভিন্ন হতো

যাঁর জন্ম না হলে বাংলাদেশের ইতিহাস হয়তো ভিন্ন হতো

মতামত কলাম ও ফিচার জাতীয় খবর মুক্তিযুদ্ধ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নাজনীন সীমন।।  যাঁর জন্ম না হলে বাংলাদেশের ইতিহাস হয়তো ভিন্ন হতো, অথবা পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশের বাঙালী হিসেবে আমাদের আত্নপরিচয় ঘটতো কিনা সন্দেহ, আজ তাঁর জন্মদিন। যে মানুষটি জীবনের অনেকটা সময় জেল থেকে জেলে কাটিয়েছেন, অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি, মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও দৃঢ় থেকেছেন সংকল্পে, ত্যাগ ও নিষ্ঠার অনন্য সাধারণ দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছেন, বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে অত্যাচারী স্বৈর শাসক এর হাত থেকে জাতিকে মুক্ত করতে ও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সময়োপযোগী নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তিনি নির্দিষ্ট কোনো দলের নন, কেবল বাংলাদেশ বা ভারত বর্ষের কোনো নেতা নন, তিনি গোটা পৃথিবীর প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে একজন।

এই সূর্য সন্তানের কেবল একটিই সমস্যা ছিলো যা তিনি এক সাক্ষাৎকারে নিজেই উল্লেখ করেছেন: তিনি দেশের মানুষকে বড়ো বেশী ভালোবেসেছিলেন। সাথে যোগ করা যায়, খুব বেশী বিশ্বাস করেছিলেন মীরজাফরের মতো কুলাঙ্গারে ভরা এদেশের মানুষকে। ফলে মাত্র ৫৫ বছর বয়সে তিনি নিজেই কেবল জীবন দেননি, অন্তত যে সময়টা দেশের মানুষের তাঁকে আরো বেশী প্রয়োজন ছিলো, তেমন সময়ে এ দেশ ফিরে গিয়েছিলো পুরোনো শকুনদের হাতে এবং সেইসব শকুনদের কারণে আজো দেশের ভবিষ্যৎ কেবলই অন্ধকার মনে হয়।
নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয় এ কারণে যে প্রকৃত ইতিহাস জানার কারণে এই উজ্জ্বল নক্ষত্রকে চিনতে ভুল হয়নি, তাঁকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হয়নি।
যাঁর জন্ম না হলে বাংলাদেশের ইতিহাস হয়তো ভিন্ন হতো
যদি জীবন ভালবেসে থাকি, তবে আমাকে জন্ম দেয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞ আমার মা ও বাবার কাছে। যদি নিজকে ভালবেসে থাকি, তবে বঙ্গবন্ধুর কাছে আমি ঋণী আমাকে একটি জাতির অন্তর্ভূক্ত করার জন্য। যে মানুষটি না থাকলে বাংলাদেশের জন্ম আদৌ হতো কিনা প্রশ্ন সাপেক্ষ, যিনি সমস্ত বাধা বিপত্তিকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছেন একটি মানচিত্র ও পতাকা উপহার দেবার জন্য, সাত কোটি মানুষকে যিনি জাগিয়ে তুলেছিলেন বজ্রকণ্ঠে, অসামান্য প্রজ্ঞা দিয়ে রাজনৈতিক শত্রুদের মোকাবিলা করেছেন এবং অতুলনীয় মমতায় জাত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে কাছে টেনে নিয়েছেন, বীরাঙ্গনাদের যিনি নিজের কন্যা বলে তাঁদের সামাজিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে সচেষ্ট হয়েছেন, কেবল বাংলাদেশ ও তার মানুষকে নিজের ধ্যান জ্ঞান করেছেন আমৃত্যু, নিজের কবর খোঁড়া দেখেও যিনি মৃত্যুভয়ে ভীত না হয়ে তার নিথর দেহ তাঁর স্বদেশে পাঠানোর কথা বলেছেন, শোষিতের অধিকার রক্ষায় যিনি জীবনপাত করেছেন, শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত যাঁর শির ছিলো সুউচ্চ গোটা পৃথিবীর কাছে এবং যিনি সর্বকালের বিশ্বনেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন, তেমন একজন মানুষই তো কোনো জাতির পিতা হবার যোগ্যতা রাখেন। আমরাই অধম ‘জাতির পিতা’ নিয়েও দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগি; এ আমাদের হীনমন্যতা ও অজ্ঞতার ফল। একগুচ্ছ বোধহীন লোকে কি বলে বা ভাবে তাতে সময়ের কিছু আসে যায় না। বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধুই।
যাঁর জন্ম না হলে বাংলাদেশের ইতিহাস হয়তো ভিন্ন হতো

হাজার বছরের শ্র্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, বঙ্গবন্ধু যিনি জাতি হিসেবে আমাদের বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার অধিকার দিয়েছেন, দিয়েছেন একটি মানচিত্র এবং লাল সবুজের পতাকা, সেই মহাত্নার জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা। আজ যদি তিনি থাকতেন শুধু আমাদের মাঝে!