যৌবনা হয়ে বয়ে চলা মৃতপ্রায় কপোতাক্ষ নদ

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
যৌবনা হয়ে বয়ে চলা মৃতপ্রায় কপোতাক্ষ নদ
যৌবনা হয়ে বয়ে চলা মৃতপ্রায় কপোতাক্ষ নদ

সাজেদ রহমান।। বিগত যৌবনা হয়ে বয়ে চলা মৃতপ্রায় কপোতাক্ষ নদের এক প্রান্তে পানির উপর ঠাই দাঁড়িয়ে ইটের স্তম্ভটি। মাঝখানে ধসে পড়া অংশটি এখন ওই স্তম্ভকে দু’টি ভাগে বিভক্ত করেছে। অনেকের মনে বার বার প্রশ্নটি ঘুরে ফিরে আসে-নদীর প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা স্তম্ভটি কিসের ধ্বসাবশেষ। কার হাতে নির্মিত হয়েছিল ওটি। কিন্তু এ প্রজন্মের মানুষের কেউই বলতে গেলে প্রশ্নটির জবাব জানে না। জানেন না কে ছিলেন মিঃ বেনফোর্ট।

বাংলা ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দখলে যাবার পর চৌগাছাও তাদের কাছে গুরুত্ব পায়। এর সঙ্গে কৃষ্ণনগরের যোগাযোগ যাতে সড়কপথে নির্বিঘ্ন হয় সেজন্য যশোরের জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মিঃ বেনফোর্ট ১৮৫০ সালে চৌগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর সেতু নির্মাণ করেন। যশোর-চৌগাছা সড়কও নির্মাণ হয় তাঁর আমলে। উত্তর থেকে দক্ষিণগামী চৌগাছার পশ্চিম পাশ দিয়ে ছুঁয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদের ওপর আজকে যে ইটের স্তম্ভটি দাঁড়ানো সেটিই বেনফোর্টের গড়া সেই বিখ্যাত সেতুর ধ্বংসাবশেষ। যা এখনকার চৌগাছাবাসীর অনেকে কাছে অজানা।
১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে যশোরের জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট হয়ে আসেন মিঃ বেনফোর্ট। জেলার উন্নয়নে তাঁর ভুমিকা ছিল সর্বাধিক। ১৮৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি যশোরে থাকেন। চৌগাছা ছিল তাঁর পছন্দের স্থান। তিনি চিনি কারখানার মালিক এবং নীলকরদের অনুরোধে ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে যশোর-চৌগাছা সড়ক নির্মাণের কাজে হাত দেন। চৌগাছা থেকে মহেশপুর, হাসখালী হয়ে সড়কটি যুক্ত হয় বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলা সদর ও তৎকালীন বিভাগীয় শহর কৃষ্ণনগরের সঙ্গে। আর একটি সড়ক পুড়োপাড়া হয়ে বাগদা-বনগাঁতে গিয়ে মেশে ঐতিহাসিক যশোর রোডের সঙ্গে।
বেনফোর্ট চৌগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে নির্মাণ করে ঐতিহাসিক সেতু। সেতু নির্মাণে প্রচন্ড বিরোধিতা আসে মাঝি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে। মাঝিরা কয়েক দফা আক্রমণ চালিয়ে নির্মাণাধীন সেতু ভেঙ্গ ফেলার চেষ্টা করেন। প্রচার ছিল ‘সাহেবরা’ ছাড়া কেউ সেতুটি ব্যবহার করতে পারবে না।
ফলে সাধারণ মানুষও মাঝিদের পক্ষে যোগ দেন। রক্তাক্ত সংঘাত সত্ত্বেও সেতুটি নির্মাণ শেষ হয়। কিন্তু নির্মাণের তিন বছরের মাথায় বর্ষার প্রবল স্রোতে এটি ভেঙ্গে পড়ে। এরপর তা আর পুনর্নিমাণ করা হয়নি। সেতু নির্মাণ ও তা ভেঙ্গে পড়ার পর ১৭০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। সেই প্রমত্তা কপোতাক্ষ এখন নেই।
সেতুর ধ্বংসাবশেষ বলতে অবশিষ্ট আছে পশ্চিমপ্রান্তের স্তম্ভটি। আর এই স্তম্ভের ধার থেকে সংযোগ সড়কের অংশবিশেষ। পুর্বপ্রান্তে এর কোন চিহ্ন অবশিষ্ট নেই। চৌগাছায় কোন অচেনা মানুষ এখনও গেলে নদীর প্রান্তে দাঁড়ানো স্তম্ভটি দেখে অবাক হন।
আশেপাশের মানুষের কাছে জানতে চান। বয়োবৃদ্ধরা বলেন, শুনেছি সাহেবদের বানানো ব্রিজ। এর বেশি কোন জবাব দেয়ার ক্ষমতা নেই কারও। মি: বেনফোর্টও সেখানে অনুপস্থিত। মহাকাল এর চিহ্নকে যেদিন মুছে দেবে-তখন হয়তো কোন কৌতুহলই আর অবশিষ্ট থাকবে না কারও।

Leave a Reply

Your email address will not be published.