শান্তিনিকেতনে সোনাঝুরির হাট

কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরির গাছ। বাংলায় আমরা বলি ‘আকাশমণি’। সারা বিশ্বে কত রকম নামে পরিচিত – ‘অ্যাকাসিয়া অরিকুলিফর্মিস’, ‘অরি’, ‘ইয়ারলিফ অ্যাকাসিয়া’, ‘ইয়ারপড ওয়াটল’, ‘নর্দার্ন ব্ল্যাক ওয়াটল’, ‘পাপুয়ান ওয়াটল’, ‘ট্যান ওয়াটল’। মনোরম এই গাছের মিষ্টি একটা নাম দিলেন রবীন্দ্রনাথ –‘সোনাঝুরি’। শান্তিনিকেতনে প্রচুর সোনাঝুরি গাছ দেখা যায়। বীরভূমে রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নভূমির প্রতীক হয়ে উঠেছে সোনাঝুরি।
বেশিরভাগ বাঙালির কাছেই সোনাঝুরি গাছ আর শান্তিনিকেতন সমার্থক। এরই সঙ্গে সমার্থক সোনাঝুরির হাট। সপ্তাহের শেষে শনিবারের হাটে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা যেমন ঘুরতে যান, তেমনি ঢুঁ মারেন স্থানীয় মানুষেরাও। পছন্দমতো কেনাকাটায় মেতে ওঠেন। খুশির খবর, লকডাউনের পর সোনাঝুরির হাট চালু হয়েছে আবার। ফের স্বাগত জানাচ্ছে ভ্রমণার্থীদের।
এটিকে খোয়াই-সোনাঝুরি হাটও বলা যেতে পারে। খোয়াই-শান্তিনিকেতনে সোনাঝুরি গাছের শুকনো জঙ্গলে এর অবস্থান। সোনালি ফুলের এই গাছগুলির বৈশিষ্ট্য একটু অন্যরকম। বীরভূমের লাল ল্যাটেরাইট মাটিতে সহজেই বেড়ে ওঠে। পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে শান্ত কোপাই নদী।
কোপাই এবং সোনাঝুরি জঙ্গলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর বহু রচনায় এগুলির প্রসঙ্গ এসেছে। কোপাইকে নিয়েই রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন বিখ্যাত ‘আমাদের ছোটো নদী’ কবিতাটি।
শান্তিনিকেতন এবং আশেপাশের কারিগরেরা সেদিন আসেন, জঙ্গলে অস্থায়ী স্টলে বসে তাঁদের শিল্পসামগ্রী বিক্রি করেন।
হস্তশিল্পের বিচিত্র সম্ভার সত্যিই অবাক করার মতো। এত আকর্ষণীয়, হাট থেকে কিছু না কিনে আপনি ফিরতেই পারবেন না। বিক্রেতাদের মধ্যে প্রচুর আদিবাসী কারিগরও আছেন। অনবদ্য তাঁদের সৃষ্টি। নানা রকম বাটিক প্রিন্ট দেখতে পারেন। – সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.