শিঙাড়া আদতে বাঙালিদের এখানে জন্ম হয়নি

কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
সাজেদ রহমান।।শিঙাড়া। খাবারটা কিন্তু আদতে বাঙালিদের এখানে জন্ম হয়নি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে এর আগমন ভারতীয় উপমহাদেশে। একদল ইতিহাসবিদের মতে পার্সি শব্দ ‘সংবোসাগ’ থেকে এই শিঙাড়া নামের উৎপত্তি হয়েছে।
ইরানি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এই সংবোসাগ বা সাম্বুস কয়েকশো বছর আগে ভারতবর্ষে এসে পৌঁছায়। তারা সারাদিন ব্যবসার কাজে পথে পথে ঘুরে রাতে যে সরাইখানায় থাকতেন সেখানে পরের দিনের পাথেয় হিসেবে ময়দার খোলের মধ্যে মাংসের পুর ভরে তৈরি হত সাম্বুসা বা সামোসা। মাংসের পুর ভরা এই খাবার অনেকক্ষণ ভালো থাকতো বলে এটি পথের খাবার হিসেবে নিতেন তারা।
ইরানি ঐতিহাসিক আবুল ফজল বৈহাকির ‘তারিখ-এ-বৈহাগি’ বইতেও এই সাম্বোসার উল্লেখ পাওয়া যায়। চতুর্দশ বা পঞ্চদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে মালোয়ার সুলতানের রাজসভাতেও নাকি শিঙাড়া পরিবেশন করা হতো। পার্সি ভাষায় লেখা মধ্যযুগের রান্নার বই ‘নিমতনামা’য় প্রায় আটরকম শিঙাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা রাজসভায় পরিবেশিত হতো। সেইসব শিঙাড়ায় কোনটায় মাংস থাকত আবার কোনোটায় হরিণের মাংস। বাদাম, ক্ষীর আর গোলাপজল দিয়ে মিষ্টি পুর ভরা শিঙাড়াও তৈরি করা হত। ইবন বতুতার বর্ণনায় পাওয়া যায় যে মহম্মদ বিন তুঘলকের রাজসভাতেও পরিবেশন করা হত শিঙাড়া এবং সেই শিঙাড়ায় পেস্তা, মাংস, আখরোট ও বাদামের পুর দেওয়া হতো। আবুল ফজলের লেখা আইন-ই-আকবরি বইতেও কুতাব নামে একটি খাদ্যদ্রব্যের উল্লেখ আছে তৎকালীন ভারতে যা ‘সামবোশাহ’ নামে পরিচিত ছিল। তবে তখনো শিঙাড়ার ভিতরে আলুর পুর দেওয়ার প্রচলন হয়নি।
পর্তুগিজরা যখন ভারতে প্রথম উপনিবেশ স্থাপন করল তখন তাদের সঙ্গেই ভারতে চলে এলো বাটাটা বা বাতাতা– বাংলায় যে চমৎকার আনাজটিকে বলা হয় ‘আলু’…. আর সে এসেই হৈ হৈ করে বাঙালি রান্নাঘরের সিংহভাগ দখল করে বসলো। তার পর থেকেই শিঙাড়ায় আলুর পুর দেওয়ার প্রচলন শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.