সতীশচন্দ্র মিত্র লিখেছেন ইতিহাসের আকর গ্রন্থ ‘যশোহর খুলনার ইতিহাস’

কলাম ও ফিচার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাজেদ রহমান।। সতীশচন্দ্র মিত্র লিখেছেন ইতিহাসের আকর গ্রন্থ ‘যশোহর খুলনার ইতিহাস’। গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের (খুলনার ইতিহাস) প্রকাশ ১০৬ বছর আগে। আর দ্বিতীয় খণ্ডের (যশোহরের ইতিহাস) প্রথম প্রকাশ ১০০ বছর আগে। অনেক রকম করে এ অঞ্চলের ইতিহাস লেখা হলেও এখন পর্যন্ত সতীশচন্দ্র মিত্রর কাজটিই আকর গ্রন্থ।

এ অঞ্চলের ইতিহাস, ভূগোল নিয়ে শিশুদের জন্য বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর বড় কাজ এই একটি। তাঁর ‘যশোহর খুলনার ইতিহা’ বই লেখার পিছনেও একটু ইতিহাস আছে। সতীশচন্দ্র মিত্র, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের কাছে গিয়েছিলেন গুরুর জীবনী লিখে নিয়ে। আচার্য তাঁকে বললেন মানুষের কাজে লাগে এমন কিছু করতে। যেমন নিজের জনজাতি ও জনপদের ইতিহাস লেখার কাজ।

ফিরে আসলেন তিনি। এরপর কয়েক বছর শিষ্যের আর কোনো খবর নেই দেখে আচার্য ভাবলেন, পালিয়েছে। কয়েক বছর পর একদিন বিস্তর পাণ্ডুলিপি ও নথিপত্র নিয়ে ফিরলেন শিষ্য। প্রফুল্ল চন্দ্র রায় বিস্ময়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন সে কাজের দিকে, তারপর বললেন, ভুল আমারই হয়েছে। গুরুর মুখে এমন কথা শুনে শিষ্য ভাবলেন সব অনর্থ তবে! কয়েক বছর ধরে বনে-বাদাড়ে নিজের জীবন বিপন্ন করে তন্ন তন্ন করে খুঁজে আনা এক একটি নতুন আবিষ্কার মূল্যহীন হলো বলে বেদনাহত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন নতমুখে। আচার্য বললেন, এই কাজ আমার প্রত্যাশার বাইরে। ভুল করে সুন্দরবনের ইতিহাস লিখতে বলেছিলাম, বরং ভারতবর্ষের ইতিহাস প্রণয়ন করতে দিলে মানুষ আরও বড় উপকার পেত। কাজটি তুমিই পারতে যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে।

আনন্দে-বিস্ময়ে-উৎসাহে শিষ্য শুরু করলেন দ্বিতীয় খণ্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহ। ১৯১৪ সালে বাঙালি পেল ‘যশোহর খুলনার ইতিহাস’-এর মতো একটি আকর গ্রন্থের প্রথম খণ্ড। শতবর্ষী যে গবেষণা এখনো সমকালীন। ‘যশোহর খুলনার ইতিহাস’ আকর গ্রন্থ নিয়ে তাই পাঠকের উদ্দেশ্যে তাঁর স্বগতোক্তি, ‘পুস্তকে যাহা কিছু লিখিত হইয়াছে, তাহা ঐতিহাসিক মর্যাদা রক্ষার জন্য। কোন প্রকার স্বার্থ, স্বজাতিপ্রীতি, ভীতি বা অসূয়া কর্তব্যভ্রষ্ট করিতে পারে নাই।’

প্রথম খন্ড প্রকাশিত হলে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে এক কপি বই দিয়েছিলেন। বই পেয়ে তিনি ১৯২৩ সালের ১৩ মার্চ সতীশচন্দ্র মিত্রকে একখানা চিঠি লেখেন। চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখেন, ‘‘ আমি কিছু কাল হইতে ভ্রমণে নিযুক্ত আছি। আপনার প্রেরিত বইখানি আশ্রমে আমার জন্য অপেক্ষা করিতেছে। আপনার খুলনার ইতিহাসের প্রথম খন্ড পড়িয়া তৃপ্তিলাভ করিয়াছিলাম এবং বোধ করি যথাসময়ে সে কথা আপনাকে জানাইয়াছি। দ্বিতীয়খন্ডও উপাদেয় হইবে সে বিষয়ে সন্দেহ করিনা। আপনি ঐতিহাসিক, আপনাকে এ কথা বলা বাহুল্য যে, ইতিহাস দেশের গৌরব ঘোষনার জন্য নহে, সত্য প্রকাশের জন্য। আপনার ইতিহাসে আমাদের দেশের পাঠকরা সত্যসন্ধানের কঠিন সাধনা উপলদ্ধি করিতে পারিবে ইহাই আমি আশা করি।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published.