সম্রাটের পতন

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বহুল আলোচিত জুয়ার বড় আসর হিসেবে পরিচিত ক্যাসিনো সম্রাট যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র‍্যাব সম্রাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বহু অপরাধের সাক্ষী ক্যাসিনো জুয়ার অন্যতম কর্ণধার ঢাকা মহানগর যুবলীগের দক্ষিণের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকেও গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পর সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে তার কাকরাইলের অফিসে টানা পাঁচ ঘণ্টা অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে অফিস থেকে প্রায় বারো শ’ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, পাঁচ রাউন্ড তাজা বুলেট, একটি ম্যাগজিনসহ একটি অত্যাধুনিক বিদেশী পিস্তল ও দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পরপরই সম্রাটকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ক্যাঙ্গারুর চামড়া রাখার দায়ে ছয় মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। সাজা দেয়ার পর কাকরাইল থেকে কড়া নিরাপত্তায় সোজা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

আর মাদক ও অস্ত্রগোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দায়ের হচ্ছে। যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও তার সহযোগী সহ-সভাপতি আরমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানান যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ। গ্রেফতারের সময় মাদকাসক্ত থাকা আরমান মাতলামি করায় ফেনী জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দিন তাকে ছয় মাসের কারাদন্ড দেন।
গ্রেফতারকৃত দুজনই জুয়ার বড় আসর হিসেবে পরিচিত ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এক জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতারের পর বেশ গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। বহুল আলোচিত এই নেতাকে গ্রেফতারের মধ্যদিয়ে সম্রাটের ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের পতন ঘটল। গ্রেফতারকৃতরা সীমান্ত পথে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বেরসিক র‌্যাব তাদের গ্রেফতার করে ফেলে। সম্রাটের দ্বিতীয় স্ত্রীর মহাখালী ডিওএইচএসের বাড়িতে ও সম্রাটের শান্তিনগরের শেলটেক টাওয়ারের বাড়িতে এবং সম্রাটের সহযোগী এনামুল হক আরমানের মিরপুরের ও কলাবাগানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। আরমানের মিরপুরের বাড়ি থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের বারোটি চেক বই উদ্ধার হয়েছে। দেশে ক্যাসিনো ব্যবসা, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের আদ্যোপান্ত জানতে সম্রাটকে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা জি কে শামীম, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও অনলাইন ক্যাসিনোর গডফাদার সেলিম প্রধানকে টিএফআই সেলে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, অবৈধ কর্মকা-ের সঙ্গে যারাই জড়িত হোক না কেন, কারও নিস্তার নেই। কেউ রেহাই পাবে না। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও র‌্যাব মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। শুধু ক্যাসিনো নয়, যারা অবৈধ কর্মকান্ডে জড়িত থাকবে তাদেরই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
রবিবার ভোর পাঁচটার দিকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অভিযান শেষে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভারত সীমান্ত লাগোয়া আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তারা যে বাড়িটিতে লুকিয়ে ছিল সেটি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের দল হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা মনিরুল ইসলাম চৌধুরীর। বাড়ির মালিক সম্রাটের আত্মীয় বলেও এলাকায় গুঞ্জন আছে। 
সুত্র-দৈনিক জনকণ্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published.