সিনহা হত্যার ঘটনা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি প্রতিবেদন জমা

আইন-আদালত জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডেস্ক।। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের হত্যার ঘটনা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের হাতে তদন্ত প্রতিবেদন তুলে দেওয়া হয়। প্রতিবেদন দেওয়ার সময় কমিটিপ্রধান চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) সরকারের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ কমিটির চার সদস্যই উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলেছেন, ‘কেবল প্রতিবেদন পেলাম, আমরাও এখনো এটা দেখিনি। যেহেতু এই ঘটনায় আদালতের নির্দেশে আরেকটি তদন্ত চলমান, তাই এই তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে কিছু জানানো যাবে না। সচিব প্রতিবেদনটি দেখে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নেবেন।’ ‘আমরা আমাদের তদন্তের বিষয়ে আদালতকেও জানাব। যদি আদালত মনে করেন, তারা এটা রাখবেন, তাহলে তারা নিতে পারে’, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কমিটির প্রধান মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেছিলেন, ‘কমিটি অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের মৃত্যুজনিত ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মোট ৬৮ জনের সঙ্গে কথা বলেছে, তাদের বক্তব্য গ্রহণ করেছে। এই সব কথা-বক্তব্য এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করে কমিটির সকল সদস্য সর্বসম্মতভাবে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করেছে। সিনহার মৃত্যুর ঘটনাটি কেন ঘটেছে এবং এ ঘটনায় কারা দায়ী তা প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে লক্ষ্যে সুপারিশ করবে কমিটি। আমাদের কমিটির তদন্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি এই ঘটনায় আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। আইনি প্রক্রিয়ায় ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ হত্যার ঘটনার জন্য কারা দোষী তা আদালতই নির্ধারণ করবেন। দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ারও আদালতের। আমাদের কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজন মনে করলে বিচার কাজে ব্যবহার করার এখতিয়ার আদালতের আছে।’

মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত চার সদস্যের কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল এসএম সাজ্জাদ হোসেন, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রতিনিধি অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক জাকির হোসেন খান ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলী।

আগস্টের ২ তারিখে এ কমিটি গঠন করা হয় এবং কমিটির কার্যক্রম শুরু হয় ৩ আগস্ট। সাত কর্মদিবস অর্থাৎ ১০ আগস্ট কমিটিকে প্রতিবেদন জমাদানের সময় বেধে দেয় মন্ত্রণালয়। এরপর প্রথমবার কমিটির সময় বাড়ানো হয় ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। পরে কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবারও সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয় ৩১ আগস্ট। এ সময়ের মধ্যে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বক্তব্য গ্রহণ করতে না পারায় কমিটির মেয়াদ সর্বশেষ ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ২ সেপ্টেম্বর কমিটি কক্সবাজার জেলা কারাগারে প্রদীপ কুমার দাসের বক্তব্য গ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশের খান। ডেইলী স্টার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.