সিভিল সার্জনের নির্দেশ অমান্য করে কেশবপুরে প্যাথলজিতে চলছে রমরমা ব্যবসা

স্বাস্থ্য
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জেলা সিভিল সার্জনের নির্দেশ অমান্য করে বন্ধ হাওয়ায় কেশবপুরে প্যাথলজিতে চলছে রমরমা ব্যবসা। বুধবার সকালে দ্বিতীয় দফায় ক্লিনিক ও প্যাথলজি প্রতিষ্ঠানের বৈধতা ও স্বাস্থ্য সেবায় মান যাচায়ে ৬টি ক্লিনিক ও ১০টি প্যাথলজিতে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান পরিচালিত হয়। সিভিল সার্জন এ সময় ৪টি প্যাথলজি ও একটি র্ফামেসী বন্ধ করে দেন। 

যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ মোঃ আবু শাহীন অভিযান পরিচালনা করার পরের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বন্ধ হাওয়ায় রাইজিং ডায়াগস্টিক সেন্টার খুলে রেখে রুগিদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে। এ যাবত চার বার সরকারিভাবে বন্ধ করে দেয়া কেশবপুরের আলোচিত জীনের বাদশা জিয়া পীরের হাসপাতালের সামনে আস্তানা জিয়া র্ফামেসীতে রুগি দেখার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

কেশবপুরে দ্বিতীয় দিনে ক্লিনিক প্যাথলজিতে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান ৫প্যথলজিসহ র্ফাসেমী বন্ধ ঘোষনা 

কেশবপুরে দ্বিতীয় দিনে ক্লিনিক প্যাথলজিতে স্বাস্থ্য
বিভাগের অভিযান ৫ প্যথলজি ও র্ফাসেমী বন্ধ ঘোষনা

বুধবার ক্লিনিক ও প্যাথলজিতে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানে রাইজিং ডায়াগস্টিক সেন্টার ও জিয়া র্ফামেসী বন্ধের নির্দেশনা দেন সিভিল সার্জন। এ সময় তার সাথে ছিলেন, যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মীর আবু মাউদ, যশোর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নাসিম ফেরদৌস, অফিস সহকারী পার্থ প্রতীন লাহেরী, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন, ডাক্তার জাহিদুর রহমান প্রমুখ।

বুধবার সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত একটানা এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় যন্ত্রপাতি, কাজপত্রে ত্রুটি, বৈধতা ও স্বাস্থ্য সেবায় মান ভাল না থাকার অভিযোগে কেশবপুর শহরের রাইজিং ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জিয়া র্ফামেসী বন্ধ করে দেন জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ মোঃ আবু শাহীন। অভিযান পরিচালনাকালে মর্ডাণ হাসপাতাল ও কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিকের বিভিন্ন ডাক্তারের নামের সাইন বোর্ড নামিয়ে দেওয়া হয়। মর্ডাণ হাসপাতাল ও কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ১০ জনের বেশি রুগি থাকায় ১০ জন রোগি বাদে অতিরিক্ত রুগিদের ক্লিনিক থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। মর্ডাণ হাসপাতাল ও কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিকসহ সকল ক্লিনিকে নিয়ম অনুযায়ী ১০ জনের বেশি রুগি ভর্তি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠার ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে ক্লিনিক ও প্যাথলজি মালিকদের সর্তক করে দেন জেলা সিভিল সার্জন। মনোয়ার ডায়াগস্টিক সেন্টারের জায়গা কম থাকায় ২ দিনের মধ্যে বেশি জায়গায় ডায়াগস্টিক সেন্টার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এর আগে ২২ আগস্ট শনিবার সকালে ক্লিনিক ও প্যাথলজি প্রতিষ্ঠানের বৈধতা ও স্বাস্থ্য সেবায় মান যাচায়ে যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মীর আবু মাউদ কেশবপুরের আরিয়ান ডায়াগস্টিক সেন্টার, হিরা ডায়াগস্টিক সেন্টার, সাতবাড়িয়া ডিজিটাল ডায়াগস্টিক ও কেশবপুর মার্তৃমঙ্গল ক্লিনিকের প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সার্বিক কার্য্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করেন।

এছাড়া ও্ই দিনের অভিযানকালে কেশবপুর হেল্থ কেয়ার হসপিটল, মর্ডান হাসপাতা, কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল, মাইকেল ক্লিনিক, মাতৃমঙ্গল ক্লিনিক, কেশবপুর সার্জিক্যাল ক্লিনিক এবং ক্রিস্টাল, মনোয়ারা, রাইজিং, হোসেন, পেয়ারলেস ও রাইজিং প্যাথলজি সেন্টারের মালিকদেরকে ত্রুটিপূর্ন যন্ত্রপাতি ও প্রতিষ্ঠানের সকল কাগজপত্র যথা সময়ে ঠিকঠাক করার প্রাথমিক হুশিয়ারী প্রদান করেন।

কার্যক্রম চালু রাখার ব্যাপারে রাইজিং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আবু সাঈদ বলেন, এখানে সকল কার্যত্রুম বন্ধ রয়েছে। ডাক্তারা শুধুমাত্র রুগি দেখছেন। জিয়া র্ফামেসী এর মালিকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য বার বার চেষ্টা করা হলেও তিনি আসেননি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিভিল সার্জন ডাক্তার মোঃ শেখ আবু শাহীন বলেন, রাইজিং ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও জিয়া র্ফামেসীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলমগীর হোসেনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.