স্বনির্ভর করা গেলে কমে আসবে সীমান্ত হত্যা

স্বনির্ভর করা গেলে কমে আসবে সীমান্ত হত্যা

কলাম ও ফিচার জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফজলুল বারী, বিশিষ্ট সাংবাদিক।।

বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলামের বক্তব্য বাংপাকি ছাগুদের গাত্রদাহের কারন সৃষ্টি করতে পারে। সাফিনুল বলেছেন সীমান্ত এলাকার মানুষজনের শিক্ষা দীক্ষা বাড়ালে স্বনির্ভর করা গেলে কমে আসবে সীমান্ত হত্যা।
ফেসবুকে বসে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে যারা বেশি বেশি বানী দেন তাদের বেশিরভাগ সীমান্তের মানুষের জীবন জানেননা।
যেহেতু সিলেট সীমান্তের ওপারে আমার দাদাবাড়ি নানাবাড়ি তাই শৈশব থেকেই আমি সীমান্তের মানুষের জীবন জানি। নদী সীমান্ত সিলেটকে দুইভাগ করেছে ১৯৪৭ সালে। ওই সময় আমার দাদাবাড়ি নানাবাড়ি দুটোই ভারতে পড়ে যায়। নদীর ওপারে ভাংগার বাজারে আমার দাদাবাড়ি। আবার এপারে আমলসীদে ফুপুর বাড়ি। মায়ের বাপের বাড়ি বদরপুরে হলেও তার মামাদের অনেকের বাড়ি এপারের বারঠাকুরীতে।
আমার আব্বা যেহেতু সিলেট এমসি কলেজে পড়েছেন তাই এই এলাকা ভালো জানতেন। সরকারি চাকরিও নেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে। এরজন্য ভারত সরকার তার সব জমি সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে। আমাদের ভাইবোনদের জন্ম বাংলাদেশে। আব্বাও চাকরি থেকে অবসর নিয়ে বাড়ি করেন কুলাউড়ায়।
ছোটবেলা থেকে যখন দাদাবাড়ি নানাবাড়ি যেতাম তখন অবাক হয়ে দেখতাম সীমান্তের বাংলাদেশ প্রান্তে অনগ্রসর জীবন। ভারত প্রান্তে পাকা সড়ক বিদ্যুৎ সবকিছু। এমন ধারনা ছিল ভারত এসে নিয়ে যাবে এরজন্য একটি রাইস মিল স্থাপনের অনুমতিও দেয়া হতোনা। আমি তখন অবাক হয়ে দেখতাম সীমান্তবর্তী লোকজন দিনে ঘুমায়। রাত জেগে চোরাচালানী পণ্য আনা নেয়া করে! সাংবাদিকতার জীবনে এমন দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় দেখেছি।
গত ৩০-৪০ বছরে এসব পরিস্থিতি অনেক পাল্টালেও সারাদেশের মানুষের জীবন যত বদলেছে সে রকম বদলায়নি সীমান্তের মানুষের জীবন। যে সব পরিবার শহরের দিকে সরে এসেছে তাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করে পৃথক জীবন গড়েছে। ফেসবুকে কতজনকে লিখেছি সীমান্তে আপনিতো মারা যাননা, কারা মারা যায় এদের পেশাজীবনের খোঁজ নিন। তাদের জীবনে আলো নেই। নেই শিক্ষা-চাকরির ভালো ব্যবস্থা। বংশের ধারাবাহিকতায় অনেকের পেশা চোরাচালানী। বাপ চোরাচালানী ছিল। গুলিতে মারা গেছেন। এরপরও এখন ছেলে চোরাচালানী।
এভাবে একজন মানুষের মৃত্যুও কাম্য নয়। কিন্তু এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান বিজিবির মহাপরিচালকের কথায়। সীমান্তের মানুষের জীবন বদলাতে হবে। তাহলে তারা এভাবে বেআইনিভাবে আরেক দেশে ঢুকতে গিয়ে মরতে যাবেনা। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এখন পর্যন্ত ভারতীয় চোরাকারবারীদের সিংহভাগ শ্রমিক বাংলাদেশী। এরাই মরে। কারন আমরা আমাদের মানুষের জীবন বদলাইনি। খালি বক্তৃতাই দিয়ে যাই প্রতিদিন।  ভিজিট করুন

1 thought on “স্বনির্ভর করা গেলে কমে আসবে সীমান্ত হত্যা

Comments are closed.