৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত হয় হানাদার বাহিনীর কবল থেকে

৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত হয় হানাদার বাহিনীর কবল থেকে

জাতীয় খবর
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত হয় হানাদার বাহিনীর কবল থেকে

৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত হয় হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে। মিত্র বাহিনীর সাথে এসেছিলেন, যশোরের সন্তান অনিল ভট্রার্চায। তিনি লিখেছেন তাঁর পত্রিকায়। যা ছাপা হয়েছে ৮ ডিসেম্বর।

তিনি লিখেছেন-এই যশোর ঘাটির পতনের সঙ্গে বাংলাদেশের এক বিস্তীর্ণ এলাকায় পাকবাহিনীর প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে পড়ল। পাকিস্তান হবার পর পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী যশোর শহরে করে তুলেছিল তাদের একরকম দুর্ভেদ্য দুর্গ। যশোর ক্যান্টনমেন্ট গড়ার অবশ্য কৃতিত্ব ওদের নয়, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ আমেরিকান বাহিনী এই ক্যান্টনমেন্ট তৈরি করেছিল।

সেই পরিত্যক্ত ক্যান্টনমেন্ট ছিল পাকিস্তানের ক্যান্টনমেন্ট। সম্ভবত কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট পরেই যশোরের স্থান। দেশভাগের পর প্রধানত বিহারী মুসলমানদের অত্যাচারে হাজার হিন্দু পরিবার ভারতে এসেছিলেন। তারপর পাকিস্তানে কয়েক বছর পরে আমি যশোরে গিয়েছি কয়েকবার। যশোর আমার মাতৃভূমি। কিন্তু সেই মাতৃভূমিকে যেন চিনতে কষ্ট হয়েছিল।

যেখানে ছিল বাংলা ভাষায় দোকানের সাইনবোর্ড। সেখানে দেখেছি উর্দুতে বিজ্ঞাপন। যে বাঙালি মুসলমান ছেলেরা আমার বন্ধু সহপাঠি ছিল, তারা যেন কেমন বিমর্ষ, দেখা হলে প্রশ্ন করেছে কেন ছেড়ে গেলি তোরা? কেন এই ধরনের প্রশ্ন করেছে। জিজ্ঞাসা করতে বলেছে-কোথায় আমাদের স্বপ্নের পাকিস্তান? এত বিহারী, পাঞ্জাবীদের রাজত্ব, যেন আমরা কেউ নয়, বিস্মিত হয়েছি।

ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানি গিয়েছি, তখন দেখেছি, শিক্ষিত বাঙালি যুবক সমাজের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য। নিজেদের দাবি স্বীকার করার জন্য আত্মত্যাগ। সেই আন্দোলন আর আত্মত্যাগের ঢেউ এসেছিল এখানেও। (কলাকাতা)। বাঙালি মুসলমান শহীদ হয়েছে। সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক।  ভিজিট করুন

কলারোয়ায় হানাদার মুক্ত হয় ৬ ডিসেম্বর